স্বপ্ন দেখার শ্রেণীসুবিধা

যেখানে প্রবঞ্চিত হওয়ার বোধ জড়িয়ে থাকে, প্রবঞ্চণার চেয়ে শেষমেষ অপমানবোধটাই বড় হয়ে ওঠে, সেখানে বিনাশের চিন্তা রাজনীতিকেও পরাস্ত করে ফেলতে পারে।

Read Article →

‘উজানে নায়ের মাঝি ভাটিতে-বা’

তার এই চিন্তা আমাদের চর্যাপদের অভ্যুদয় ও বাংলা ভাষার বিকাশকে বুঝতেও সাহায্য করে, যে শ্রেণিকার্যকারণ এই ভাষায় সাহিত্যের বিকাশকে অনিবার্য করে তুলেছিল, তা অনুভব করতে শেখায়। আর এসবের ফলে মোহাম্মদ রফিকের কবিতাও হয়ে ওঠে বাংলার লোকমানসের ফসল। তার কবিতা তাই হয়ে ওঠে মানুষের সামগ্রিকতাকে ছন্দোবদ্ধ করার প্রয়াস, মানুষ ও মহাকালের নিরন্তর প্রবহমানতার গভীরে বসবাসের প্রয়াস।

Read Article →

তাজউদ্দীন আহমদ

‘বাংলাদেশ এখন যুদ্ধে লিপ্ত। পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জন ছাড়া আমাদের হাতে আর কোনও বিকল্প নেই।’ একাত্তরের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের পশ্চিম সীমান্ত জেলা কুষ্টিয়ার মেহেরপুর […]

Read Article →

মহাশ্বেতার অনুসন্ধান

বিরসার অরণ্যপ্রাণতার কথা পাই আমরা ‘অরণ্যের অধিকার’-এ। ‘ধরতি-আবা’ হয়ে বেরিয়ে আসে সে। তার পর যে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে, অরণ্যে অরণ্যে তা আজও জ্বলছে। মহাশ্বেতা সেই আগুনের লেলিহান আভা দেখেন; […]

Read Article →

ব্যক্তির জ্ঞানচর্চা ও ভয়ের সংস্কৃতি

জ্ঞানচর্চার স্পৃহা কখনও কখনও ‘অপরাধ’ হয়ে ওঠে। প্রচল রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে ওই ব্যক্তি শত্রু হয়ে ওঠে, যে কিনা কেবলই প্রশ্নের উত্তর হাতড়ে বেড়ায়, কেবলই যুক্তি দিয়ে বুঝতে চায় সব কিছুকে। অথচ ব্যক্তির সেই স্পৃহা হয়ত জেগে ওঠে অন্তর্গত নিষ্পাপ বিহ্বলতা থেকে। জাগতে পারে অসহায় বিস্ময় ও ক্রন্দন থেকে।

Read Article →

গ্রহণপর্ব

…আমরা নিজেদের রক্তক্ষরণ লুকাতে, নিজেদের বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত গোপন খাতায় গোপন কলমে লিখতে থাকি নিজস্ব ভাষাতে। যে ভাষার মর্মোদ্ধার করা করা যায় না। সব কথাই বলতে পারছি বটে, সত্যিই কি পারছি? দুর্বোধ্যতার অভিযোগ আমাদের আরও ন্যুব্জ করে, আরও দুর্বোধ্য করে তোলে। কিন্তু লেখাকে ঘিরে এই যে আত্মকেন্দ্রিকতা, তা তো চলমান সমাজ ও জীবনের অতৃপ্তি থেকে, জীবনের প্রতি ভালোবাসা থেকেই। সে কারণেই সাহিত্য শেষ পর্যন্ত আমাদের সবার। …

Read Article →

লেখা না-লেখার মৌন অন্বেষা

দুঃস্বপ্নের মতো এই দৃশ্যকল্পটি : লেখক তার উপান্তে পৌঁছে গেছেন, ট্রেডমার্ক হয়ে গেছেন, তার লেখা ছাপা হয় নিয়মিত, দীর্ঘ সময় ধরে লিখে চলেছেন তিনি, কিন্তু কেউ হয়তো তা আর পড়ে দেখে না, নির্লিপ্ত উপেক্ষায় নাম দেখে পৃষ্ঠা উল্টে যায়, মুখোমুখি হলে অবশ্য হাসতে হাসতে বলে, লেখা দেখেছি; তাকে নিয়ে আলোচনা হয়, কিন্তু তাতে পুনর্পাঠ ও পুনরাবিষ্কারের ছাপ থাকে না। অমরত্ব নয়, এই অনিঃশেষ নির্লিপ্তিই বোধহয় লেখকের শেষ প্রাপ্তি। তারপরও লিখে চলেন তিনি। হয়তো ছাপতে দেন, হয়তো ছাপেন না, হয়তো কোনো সম্পাদক তার কাছে লেখা চায়, হয়তো নতুন কারো অভ্যুদয়ে তার জন্যে বরাদ্দ করা পৃষ্ঠা বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু তারপরও লেখেন তিনি। কেউ কেউ আবার জানার চেষ্টা করেন, এখন কী লিখছেন তিনি, কেন লেখেন তিনি।
সত্যিই তো কেন লেখেন তিনি! আমিই বা কেন লিখি?

Read Article →